মাওলানা আবদুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ সন্তানের প্রতি বাবার কর্তব্য পালনের একটি ভাইরাল ছবি কে কেন্দ্র করে তাঁর ভেরিফাই ফেইসবুক পেইজে একটি চমৎকার স্ট্যটাস শেয়ার করেন। যা সন্তানের প্রতি কর্তব্য পালনে পিতা-মাতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ। 

বিষয়বস্তুর গুরুত্ব বিবেচনায় পাঠকদের উদ্দেশ্যে মাওলানা আবদুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ হাফি. এর স্ট্যেটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো। 

আপনি কি আপনার সন্তানের প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালন করছেন? 

মাওলানা আবদুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ 

গতকাল থেকে এই ছবিটি একজন প্রতিবন্ধী পিতার সন্তানের জন্য দায়িত্বশীলতা এবং মমত্বের পরিচায়ক হিসাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। যদিও তিনি প্রশংসা বা লোক দেখানোর জন্য এ কাজটি করেন নি। আমরা পিতা পুত্রের কল্যান কামনা করছি।


কিন্তু আমি ভাবছি ভিন্ন কিছু কথা, আমরা আমাদের সন্তানের পড়াশুনা, ক্লাস কোচিং, পরীক্ষা রেজাল্ট ও আগামী নিয়ে যতটা সচেতন ও দায়িত্বশীল ঠিক ততটা সন্তানের ঈমান আমল, নামাজ রোজা, দ্বীন পালন, হালাল হারাম, ইসলাম প্রীতি, ইত্তিবায়ে সুন্নাহ নিয়ে কি "নিরাপদে রাস্তা পার করাবার" মতই সিরিয়াস?


সকালে কোচিং-এ না গেলে, প্রাইভেট মিস দিলে, ইস্কুল গাবি দিলে বা কোনো সাব্জেক্ট-এ খারাপ করলে আমরা তাকে যেভাবে বকাঝকা, শাসন, উদগ্রীবতা, ভয় দেখানো সহ আদর সোহাগে লাইনে আনার চেষ্টা করি, ঠিক ফজরের নামাজ না পড়লে বা জামাতে না গেলে বা সালাত আদায় ছেড়ে দিলে এরচেয়েও কঠোর শাসন বা কঠিন পদক্ষেপ নেই? আদরে শাসনে তাকে বুঝাই? দ্বীন পালনে বাধ্য করি?


নাকি নিজেরাই বলে থাকি অনেক রাত অবধি পড়েছে সামনে পরীক্ষা থাক আরেকটু ঘুমাক, বড় দিনের রোজা রাখলে শরীর খারাপ হয়ে যাবে! বড় হয়ে নামাজ রোজা করবে! অথচ বকার সময় তাকেই বলি তুই কি এখন ছোট আছিস নাকি!


গনিত বা ফিজিক্স না বুঝলে এই একটা সাবজেক্টের কারনে তার সামগ্রিক রেজাল্টের জিপিএ খারাপ হয়ে যাবে বলে যে দুশ্চিন্তা পেরেশানি, প্রাইভেট, টিউটর এক্সট্রা কেয়ার, কঠিন বকা, শাসন, পিটন অবধি দেই, কুরআন মাজীদ শিখাতে সেই উদ্যোগ, নামাজের দুয়া তাসবীহ শেখাতে সেই রকম দুশ্চিন্তা, সুরা ক্বিরাত মুখস্ত করানোর জন্য আমরা সেরকম পেরেশান হই! নাকি এ সাবজেক্ট-এ পাশ ফেলের চিন্তাই নাই!

ক্লাস বাই ক্লাস যেমন ছেলেমেয়েরা যেনো শতভাগ শিখে ভালো ফলাফল করে, ভালো স্কুল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে এ নিয়ে অভিভাবকদের চিন্তার কোনো শেষ নেই, সন্তানের নিরাপত্তার চিন্তায় ঘন্টার পর ঘন্টা রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে স্কুলের বাহিরে যে অপেক্ষা আর কষ্ট করি সে তুলনায় আমার সন্তানের গোসল ফরয হলে কেমনে পাক হতে হয়, কারো জানাঝায় কি পড়তে হয়, কোন কথা ও কাজে ঈমান থাকে ও চলে যায় তা শেখা নিয়ে অপেক্ষা ও উদগ্রীবতা কি একই রকম নাকি উদ্যোগই নেয়া হয়নি! নাকি


চেষ্টা করেছিলাম শিখতে চায়না বলে এড়িয়ে যাচ্ছেন! কই পড়তে চায়না বলেতো তাকে হোটেলে বা গাড়ির গ্যারেজে কাজে লাগিয়ে দেননি তাহলে দ্বীন শেখাতে সেই দায়িত্বশীল পিতামাতা এত উদাসীন কেনো?


নিজের সন্তান যেনো বখে না যায়, খারাপ মানুষের খপ্পরে পড়ে না যায়, উত্তম ম্যানার যেনো শিখতে পারে, নিজে সস্তা কাপড় পড়লেও তাদের রুচিসম্মত পোশাক আশাক প্রদানে আমরা কত ত্যাগী সেই পিতা মাতাই সন্তানকে হারাম হালালের শিক্ষা কি দেন? কোন বয়সের পর কার সাথে দেখা করা যাবে কাকে বন্ধু বানানো যাবে, কাকে যাবেনা শরীয়াতের সীমানা মানতে শেখান ও তার তদারকি করেন? এক গ্লাস দুধ না খেলে মা ক্ষেপে যান সন্তানের সাস্থ খারাপ হয়ে যাবে অথচ বাহিরে গেলে নিজের মেয়ের ড্রেস কোড ইসলাম সম্মত না হলে তার দুনিয়া আখিরাতে কী পরিনতি হবে এ নিয়ে কনসার্ন কই? ছোট থেকেই সেই মন মানোষিকতা, হাত ধরে রাস্তা পার ক হোমওয়ার্ক করাবার মতই যত্ন করে করা হয়কি?


মনে রাখবেন

الا كلكم راع وكلكم مسءول عن رعيته

পিতামাতা সন্তানের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে। এ জিজ্ঞাসা তার দ্বীন শেখানো, আল্লাহর পথে চালানো, সালাত আদায় করানো, নৈতিক মানুষ বানানো, পর্দাশীলতা শেখানো হালাল হারা চেনানোর বিষয়ে! সুতরাং আদর্শ দায়িত্বশীল পিতামাতা কেবল হাত ধরে রাস্তা পার করানো বা দুনিয়ার স্কুল কলেজ আর বিদ্যার মাঝেই সীমাবদ্ধ নয় বরং দুনিয়ায় সন্তানকে আল্লাহর একজন প্রকৃত বান্দা ও আদর্শ মুসলিম হিসেবে গড়ে তোলাই হবে মূল দায়ীত্বশীলতার পরিচয়। দুনিয়ার বিদ্যা শেখানোর সাথে সাথে এর জন্য চড়ম উদগ্রীবতা পিতামাতার কাছে ইসলামের ডিমান্ড!


আল্লাহ আমাদেরকে বুঝার তাওফিক দিন দুনিয়ায় সাময়িক পরীক্ষায় ফেল করলে সাময়িক অসম্মান অপদস্থ হতে হয়। কিন্তু পরকালীন পরীক্ষায়, প্রস্তুতিতে দুনিয়ায় ফেল করলে বা প্রস্তুতিতে ঘাটতি থাকলে পরকালে চিরস্থায়ী ফেল ও পস্তাতে হবে, যা শুধরাবার আর কোনো সুযোগ নাই।।


মাওলানা আবদুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ আরো কয়েকটি পোষ্ট : 

Mohammad Abdur Rahim
Mohammad Abdur Rahim

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভদ্রোচিত কমেন্ট করুন। অসৌজন্যতা এড়িয়ে চলুন। ধন্যবাদ।